ক্লাউড কম্পিউটিং কি?





ক্লাউড কম্পিউটিং কি?



ক্লাউড কম্পিউটিং কি?

ক্লাউড কম্পিউটিং কি?


ক্লাউড (Cloud)  বলতে বুঝায় মেঘ যা ইন্টারনেটের রূপক অর্থে ব্যবহৃত। কম্পিউটিং হলো কম্পিউটার যন্ত্রপাতী ব্যবহার করে ইন্টারনেট ভিত্তিক কম্পিউটারের ক্রিয়াকলাপ যেমন গননা, ডেটা প্রকৃয়াকরন, সিমুলেশন, যোগাযোগ ইত্যাদী।

 সংক্ষেপে, “কম্পিউটিং” শব্দটি ইন্টারনেটের মাধ্যমে সরবরাহ করা যেকোনো কম্পিউটিং পরিষেবাকে বোঝায়।

তাহলে  ক্লাউড কম্পিউটিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিনামূল্যে বা স্বল্পমুল্যে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কতৃক সরবরাহকৃত  কম্পিউটিং পরিষেবা যা ব্যবহারকারী ইন্টারনেটযুক্ত কম্পিউটার থেকে গ্রহন করে থাকে।

ব্যবহারকারী ইন্টারনেটযুক্ত কম্পিউটার  ব্যবহার করে সার্ভার, স্টোরেজ, ডাটাবেস, নেটওয়ার্কিং, সফটওয়্যার, অ্যানালিটিকস এবং আরও অনেক কিছু ব্যবহার করতে পারেন বা  ভাড়া করে নিতে পারেন যা ক্লাউড কম্পিউটিং এর অন্তর্ভূক্ত । যেমন এর মধ্যে রয়েছে:


  • সার্ভার: ওয়েবসাইট হোস্ট করার জন্য, অ্যাপ্লিকেশন চালানোর জন্য এবং ডেটা স্টোর করার জন্য ব্যবহৃত কম্পিউটার।
  • স্টোরেজ: ফাইল, ডেটাবেস এবং অ্যাপ্লিকেশন সহজে অ্যাক্সেস এবং ব্যবস্থাপনা করার জন্য ব্যবহৃত স্থান।
  • নেটওয়ার্কিং: ইন্টারনেট এবং অন্যান্য নেটওয়ার্কের সাথে সংযোগ তৈরি করার জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং পরিষেবা।
  • ডাটাবেস: ডেটা সংরক্ষণ এবং পরিচালনা করার জন্য ব্যবহৃত সফ্টওয়্যার।
  • সফটওয়্যার: অ্যাপ্লিকেশন, অপারেটিং সিস্টেম এবং প্রোগ্রামিং ভাষা সহ কম্পিউটার প্রোগ্রাম।
  • অ্যানালিটিকস: ডেটা থেকে অন্তর্দৃষ্টি এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য ব্যবহৃত সরঞ্জাম এবং পরিষেবা।
  • মেশিন লার্নিং: কম্পিউটারকে স্পষ্টভাবে প্রোগ্রাম না করেই শিখতে এবং উন্নত করতে সক্ষম করে এমন প্রযুক্তি।

এধরনের আরও অনেক পরিসেবা ক্লাউড কম্পিউটিং এর অন্তর্ভূক্ত ।

ক্লাউড কম্পিউটিং কোনো বিশেষ সামগ্রী নয়। ক্লাউড কম্পিউটিং একটি বিশেষ পরিসেবা বা রিসোর্স। ক্লাউড কম্পিউটিং পরিষেবাগুলি সাধারণত পেইড হয়। তবে ক্লাউড কম্পিউটিং কিছু ক্ষেত্রে বিনামূল্যের হতে পারে যা ব্যক্তিগত ব্যবহার বা ছোট ব্যবসার জন্য হতে পারে।।


ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারের কিছু উদাহরণ:


  • ইমেইল: Gmail, Yahoo Mail এবং Outlook এর মতো জনপ্রিয় ইমেইল পরিষেবাগুলি ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে সার্ভিস প্রদান করে।
  • স্টোরেজ: Dropbox, Google Drive এবং OneDrive এর মতো ক্লাউড স্টোরেজ রিসোর্স পরিষেবাগুলি আপনাকে আপনার ফাইলগুলিকে অনলাইনে স্টোর এবং ব্যাকআপ করতে দেয়।
  • অফিস অ্যাপ্লিকেশন: Microsoft 365 এবং Google Workspace এর মতো ক্লাউড-ভিত্তিক অফিস অ্যাপ্লিকেশনগুলি আপনাকে যেকোনো ডিভাইস থেকে Word, Excel এবং PowerPoint ব্যবহার করতে দেয়।
  • CRM: Salesforce এবং HubSpot এর মতো ক্লাউড-ভিত্তিক CRM সিস্টেমগুলি আপনাকে আপনার গ্রাহক সম্পর্ক পরিচালনা করতে সহায়তা করে।
  • ERP: SAP এবং Oracle এর মতো ক্লাউড-ভিত্তিক ERP সিস্টেমগুলি আপনাকে আপনার ব্যবসার আর্থিক এবং পরিচালনামূলক দিকগুলি পরিচালনা করতে সহায়তা করে।

Cloud Computing



কিছু জনপ্রিয় ক্লাউড কম্পিউটিং প্রদানকারীর মধ্যে রয়েছে:


  • Amazon Web Services (AWS)
  • Microsoft Azure
  • Google Cloud Platform (GCP)
  • IBM Cloud
  • Oracle Cloud

ক্লাউডকম্পিউটিংসেবারবৈশিষ্ট্য


ক্লাউড কম্পিউটিং সেবা দাতা ও সেবা গ্রহীতার মধ্যে যেসকল বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয় সেগুলো নিম্নরূপ –
১. রিসোর্স স্কেলেবিলিটি (Resource Scalability) : ক্লাউড সেবা গ্রহীতার চাহিদা কম বা বেশি যাই হউক না কেন , সে চাহিদা মেটানো হবে। অর্থাৎ ক্রেতা যেমন সেবা চাইবে , সেবা দাতা সেইভাবে সেবা দিতে পারবে।
২. অন-ডিমান্ড (On-demand ) : ক্রেতা চাহিদা গ্রহণে স্বাধীনতা থাকবে। অর্থাৎ যখন চাইবে তখনই সেবা দিতে পারবে। ক্রেতা তার ইচ্ছা অনুযায়ী যখন খুশি তার চাহিদা কমাতে বা বাড়াতে পারবে। এই বৈশিষ্ট্যটি হলো অন-ডিমান্ড (on-demand self-service usage) প্রকৃতির।
৩. পে-অ্যাজ-ইউ-গো (Pay as you go) : এইক্ষেত্রে সেবা গ্রহীতা পূর্ব থেকে কোনো সার্ভিস রিজার্ভ করতে হবে না। ঠিক যতটুকু সেবা গ্রহণ করবে ততটুকুর জন্য পেমেন্ট তাকে দিতে হবে।

ক্লাউড কম্পিউটিং কি?


ক্লাউড কম্পিউটিং এর সার্ভিসসমূহ


ক্লাউড কম্পিউটিং নিম্নরূপ সেবাসমূহ প্রদান করে থাকে। যথা-

১. অবকাঠামোগত সেবা (Infrastructure as service-IaaS) : এক্ষেত্রে সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের নেটওয়ার্ক, স্টোরেজ, সিপিইউ ও অন্যান্য মৌলিক কম্পিউটিং রিসোর্স ভাড়া দেয়; ফলে ব্যবহারকারী তার প্রয়োজনীয় অপারেটিং সিস্টেম ও সফটওয়ার চালাতে পারে। IaaS প্রদানকারীদের কিছু উদাহরণ হল Amazon Web Services (AWS), Microsoft Azure, এবং Google Cloud Platform।

২.   প্লাটফরম ভিত্তিক সেবা ( Platform as a service- PaaS) : এক্ষেত্রে ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় হার্ডওয়ার, অপারেটিং সিস্টেম, ওয়েব সার্ভার, ডেটাবেজ প্রোগ্রাম এক্সিকিউশন পরিবেশ ইত্যাদি ভাড়া দিয়ে থাকে যাতে ব্যবহারকারী সহজেই অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপ করতে পারে ও তা চালাতে পারে। PaaS প্রদানকারীর কিছু উদাহরণ হল Heroku, Google App Engine, এবং Microsoft Azure।

৩. সফটওয়ার সেবা ( Software as a service-SaaS) : সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়ার ব্যবহারকারীগণ ভাড়ার বিনিময়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে চালাতে পারেন। SaaS অ্যাপ্লিকেশনের কিছু উদাহরণ হল Google Workspace, Salesforce, এবং Dropbox।

৪.   নেটওয়ার্ক সেবা (Network as a service-NaaS) : এই সেবাটি নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীকে আন্তঃক্লাউড নেটওয়ার্ক বা ট্রান্সপোর্ট কানেক্টিভিটি সুবিধা প্রদান করে। এটি ব্যবহৃত নেটওয়ার্ক ও কম্পিউটার রিসোর্স অনুযায়ী ব্যবহারকারীকে রিসোর্স ব্যবহারের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করে। যেমন ব্যান্ড উইডথ, ভিপিএন, মোবাইল নেটওয়ার্ক ভার্চুয়ালাইজেশন ইত্যাদি।

৫.      ক্লাউড ক্লায়েন্ট সেবা (Cloud client services) : নেটওয়ার্ক ক্লায়েন্ট ডিভাইস এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীগণ ক্লাউড কম্পিউটিং এ প্রবেশ করে। এক্ষেত্রে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, স্মার্টফোন ব্যবহার করা হয়। আবার বিভিন্ন ধরনের ব্রাউজার ব্যবহার করে ক্লাউডে কাজ করা যায়। যেমন ফায়ারফক্স, গুগুলক্রোম।


ক্লাউড কম্পিউটিং কি?

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা


খরচ কমাতে সাহায্য করে:

ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহারে আপনাকে কেবলমাত্র সেই পরিষেবাগুলির জন্য অর্থ প্রদান করতে হয় যা আপনি ব্যবহার করেন, তাই আপনার কোন অপ্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার বা সফ্টওয়্যার কেনার প্রয়োজন নেই। আপনি আপনার চাহিদা অনুসারে আপনার ক্লাউড রিসোর্সগুলি বাড়াতে বা কমাতে পারেন, যার ফলে আপনার খরচ কমে।

দ্রুত এবং সহজে স্কেল করা যায়:

আপনি আপনার ব্যবসার প্রয়োজন অনুসারে আপনার ক্লাউড রিসোর্সগুলি দ্রুত এবং সহজেই বাড়াতে বা কমাতে পারেন। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে আপনি দ্রুত নতুন পণ্য এবং পরিষেবা বাজারে আনতে পারেন। এতে আপনার ব্যবসা বাড়ার সাথে সাথে আপনি আপনার ক্লাউড রিসোর্সগুলিও সহজেই বাড়াতে পারেন।

ব্যবহারের সুবিধা:

আপনি যেকোনো ডিভাইস এবং যেকোনো ইন্টারনেট সংযোগ থেকে আপনার ক্লাউড রিসোর্স অ্যাক্সেস করতে পারেন। ক্লাউডের অনেকগুলি কাজ আপনি স্বয়ংক্রিয় করতে পারেন, যা আপনার সময় এবং অর্থ সাশ্রয় করে।ক্লাউড প্রদানকারী অনেক ক্ষেত্রে আপনার সফ্টওয়্যার এবং অপারেটিং সিস্টেম আপডেট এবং রক্ষণাবেক্ষণও করে থাকে।

উন্নত যোগাযোগ সহযোগিতা:

ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করে আপনি সহজেই আপনার দলের সদস্যদের সাথে ফাইল শেয়ার করতে পারেন।আপনাকে ইমেইল, ভিডিও কনফারেন্সিং এবং চ্যাটের মতো যোগাযোগ এবং সহযোগিতার জন্য ক্লাউড কম্পিউটিং বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদান করে।

উন্নত নিরাপত্তা:

ক্লাউডে ডেটা স্টোর করার সাথে কিছু নিরাপত্তা ঝুঁকিও জড়িত। এই ঝুঁকিগুলির মধ্যে রয়েছে: ডেটা লঙ্ঘন, ডেটা অপব্যবহার, ডেটা হারানো, নিয়ন্ত্রণের অভাব ইত্যাদী। তাই এমন একটি ক্লাউড প্রদানকারী বেছে নেওয়া দরকার যার একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা খ্যাতি রয়েছে। তাই ক্লাউড প্রদানকারীর সাথে আপনার চুক্তি থাকা চাই যাতে আপনার ডেটা এনক্রিপ্ট করা হয় এবং নিরাপদ ডেটা সেন্টারগুলিতে সংরক্ষণ করা হয়। আপনার ডেটা নিয়মিত ব্যাকআপ করা হয়, এভাবে আপনি ডেটা হারানোর ঝুঁকি কমাতে পারেন।

ছোট ও প্রাথমিক উদ্যোক্তাদের জন্য ক্লাউড কমপিউটিং আশীর্বাদস্বরূপ । একটি ছোট বা মাঝারি মানের প্রতিষ্ঠানের জন্য কয়েক লাখ টাকা দিয়ে একটি সার্ভার কেনা, তা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ভালো বেতন দক্ষ লোক রাখা, সফ্টওয়্যার কেনা কঠিন। ক্লাউড কমপিউটিং এ খরচ ও ঝামেলা অনেকাংশে কমিয়ে এনে সে প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। অনেকসময় বিজ্ঞানীদের গবেষণার জন্য সাময়িকভাবে বিশাল কমপিউটিং সুবিধা প্রয়োজন হয় যা প্রতিষ্ঠা করা অনেক ব্যয়সাপেক্ষ। এক্ষেত্রে ক্লাউড সুবিধা নিয়ে কাজ করতে পারে।


ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের অসুবিধা


ক্লাউড কম্পিউটিং এ অনেক সুবিধা প্রদান করে, তবে কিছু অসুবিধাও রয়েছে :

সুরক্ষা গোপনীয়তা:

ডেটা লঙ্ঘন: আপনার ডেটা ক্লাউডে সংরক্ষণ করা হলে হ্যাকার আক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

গোপনীয়তা উদ্বেগ:  ডেটা তৃতীয় পক্ষের দ্বারা অ্যাক্সেস এবং নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

নিয়ন্ত্রণের অভাব: ডেটা এবং সিস্টেমের উপর  ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে।

খরচ:

অপ্রত্যাশিত খরচ: লুকানো ফি এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের খরচ  বাজেটকে প্রভাবিত করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদী খরচ: সময়ের সাথে সাথে, ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের খরচ ঐতিহ্যবাহী অন-প্রিমাইস সিস্টেমের চেয়ে বেশি হতে পারে। অর্থাৎ নিজের দ্বারা পরিচালিত হয় এমন সিস্টেমের চেয়ে বেশি হতে পারে।

নির্ভরতা: ক্লাউড প্রদানকারীর উপর নির্ভরশীল, যারা তাদের মূল্য এবং পরিষেবা পরিবর্তন করতে পারে। এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীর কিছু করার থাকে না।

নির্ভরযোগ্যতা:

ইন্টারনেট নির্ভরতা: এক্ষেত্রে ব্যবহারকারীকে  ইন্টারনেট সংযোগের উপর নির্ভর করতে হয়, ব্যবহারকারী ক্লাউড পরিষেবা অ্যাক্সেস করতে অক্ষম হতে পারেন।

সার্ভিস ডাউনটাইম: ক্লাউড প্রদানকারীরা পরিষেবা ব্যাঘাত এবং ডাউনটাইমের অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারে।

ডেটা হারানোর ঝুঁকি: হার্ডওয়্যার ব্যর্থতা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যবহারকারী ডেটা হারাতে পারেন।















ক্লাউড কম্পিউটিং কি?

Related :

রাউটার কি এবং রাউটার কিভাবে কাজ করে ?

হাব কি ? হাব কিভাবে কাজ করে ? প্রকারভেদ